জলবায়ুর অন্যতম উপাদান তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত। বাংলাদেশের কৃষির উপর এ দুটির প্রভাব রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দেশের জলবায়ু প্রধানত শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
আমাদের দেশের কৃষিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ুর প্রভাব রয়েছে। মৌসুম বা ঋতুভিত্তিক যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। বাংলাদেশে দুই ধরনের মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়- শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন।
শীতকালে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বায়ুতে তেমন জলীয়বাষ্প থাকে না। তাছাড়া আমাদের দেশের দক্ষিণে কোনো পর্বত না থাকায় বায়ুর উর্ধ্বগমনের মাধ্যমে শীতলীকরণ না হওয়ায় তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। এসময় কৃষকরা সীমিত আর্দ্রতা ও শীত পছন্দকারী বিভিন্ন ফসল যেমন- ডাল, গম, তেলবীজ, আলু, লালশাক, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মশলা ইত্যাদি জন্মায়। পক্ষান্তরে, গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুতে যথেষ্ট জলীয়বাষ্প থাকায় এবং উত্তরে হিমালয় পর্বতের প্রভাবে বায়ুর উর্ধ্বগমনের ফলে শীতলীকরণের সুযোগ থাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। কৃষকরা তখন অত্যাধিক আর্দ্রতা পছন্দকারী ফসল যেমন- ধান, পাট, ইক্ষু, ভুট্টা, পুঁইশাক, পটল ইত্যাদি জন্মায়। দেশের বেশিরভাগ ফসল এ সময় জন্মে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল, যেমন- পাট, তুলা, চা, তামাক, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদির উৎপাদন বেশি হলে এ সব শিল্পের সম্প্রসারণ ও বিকাশ ঘটে। তাছাড়া মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে চা ও রাবার চাষ ভালো হয় যা আমাদের অর্থকরী ফসল। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর- ডোবা, হাওর-বাঁওড় প্রভৃতি পানিতে ভরে যায়। ফলে এসব জলাশয়ে গলদা চিংড়ি, ইলিশ ইত্যাদি মাছের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের উৎপাদন বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ উষ্ণমণ্ডলে অবস্থিত হলেও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?